STRICT DIET

Strict Diet (কঠোর ডায়েট): আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে একটি বিশ্লেষণ

কঠোর ডায়েটের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চান? এই আর্টিকেলে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার রেফারেন্স সহ কঠোর ডায়েটের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আজকাল সুস্থ থাকতে এবং ওজন কমাতে “কঠোর ডায়েট” (Strict Diet) একটি জনপ্রিয় শব্দ। অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ধরণের কঠোর ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করেন, যেমন – কিটো ডায়েট, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, লো-কার্ব ডায়েট ইত্যাদি। কিন্তু এই ধরণের কঠোর ডায়েট কি আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি? আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে। এই প্রবন্ধে আমরা কঠোর ডায়েটের ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

Strict Diet কী? 

কঠোর ডায়েট বলতে এমন খাদ্যাভ্যাসকে বোঝায় যেখানে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ, ধরণ এবং সময় খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রায়শই এতে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য বাদ দেওয়া হয় বা খুব সীমিত পরিমাণে খাওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য থাকে দ্রুত ওজন কমানো বা নির্দিষ্ট শারীরিক লক্ষ্য অর্জন করা। যদিও কিছু ডায়েট প্ল্যান চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট রোগের জন্য উপকারী হতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে হুট করে কঠোর ডায়েট অনুসরণ করা অনেক সময় ঝুঁকি তৈরি করে।

Strict Diet এর ক্ষতিকর প্রভাব:

কঠোর ডায়েটের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কেবল শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। নিচে এর কিছু প্রধান দিক তুলে ধরা হলো:

১. পুষ্টিহীনতা (Nutritional Deficiencies):
যখন আপনি একটি নির্দিষ্ট ফুড গ্রুপ (যেমন: কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাট) সম্পূর্ণ বাদ দেন, তখন আপনার শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ফলমূল এবং শাকসবজি বাদ দিলে ফাইবার, ভিটামিন C, পটাশিয়ামের অভাব হতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

  • গবেষণা রেফারেন্স: একটি রিভিউ আর্টিকেল দেখাচ্ছে যে, অত্যন্ত ক্যালরি-সীমাবদ্ধ ডায়েটগুলি প্রায়শই প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলির অপর্যাপ্ততার দিকে নিয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

২. মেটাবলিক ড্যামেজ (Metabolic Damage) এবং ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা:
কঠোর ডায়েটের ফলে শরীর দ্রুত ক্যালরি হারায়, যা মেটাবলিক রেট কমিয়ে দেয়। শরীর এটিকে “অনাহার” হিসেবে দেখে এবং শক্তি সংরক্ষণের চেষ্টা করে। ডায়েট শেষ হওয়ার পর যখন স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসা হয়, তখন শরীর দ্রুত ওজন বাড়াতে থাকে, যা “ইয়ো-ইয়ো ইফেক্ট” (Yo-Yo Effect) নামে পরিচিত। এতে করে আগের চেয়ে বেশি ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • গবেষণা রেফারেন্স: ডঃ ফ্রঁসোয়া ক্যারন এবং তার সহকর্মীদের গবেষণা ব্যাখ্যা করে যে, খুব কম ক্যালরির ডায়েট দীর্ঘমেয়াদে বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) হ্রাস করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ওজন ধরে রাখা কঠিন করে তোলে।

৩. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা (Mental Health Issues):
খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা, খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়া, মানসিক চাপ এবং ডিপ্রেশন কঠোর ডায়েটের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অনেক সময় এটি খাদ্যের প্রতি এক ধরণের অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করে, যা ইটিং ডিসঅর্ডারের (Eating Disorders) জন্ম দিতে পারে।

  • গবেষণা রেফারেন্স: একটি মেটা-অ্যানালাইসিস থেকে জানা যায় যে, কঠোর ডায়েট এবং ক্যালরি সীমাবদ্ধতা এনোরেক্সিয়া নার্ভোসা এবং বুলিমিয়া নার্ভোসার মতো ইটিং ডিসঅর্ডারের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ডায়েটিং প্রায়শই খাবার নিয়ে অবসেশন তৈরি করে।

৪. হজম প্রক্রিয়া এবং পেটের সমস্যা (Digestive Issues):
অনেক কঠোর ডায়েটে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বাদ দেওয়া হয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • গবেষণা রেফারেন্স: জার্নাল অফ নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যের অভাবে হজমতন্ত্রের সমস্যা এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে।

৫. হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imbalance):
শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালরি এবং ফ্যাট না পেলে হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রে সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

  • গবেষণা রেফারেন্স: লিবম্যান এবং ফিৎসওয়াল্ড এর গবেষণায় দেখা যায় যে, দীর্ঘস্থায়ী ক্যালরি সীমাবদ্ধতা থাইরয়েড হরমোন, কর্টিসল এবং সেক্স হরমোনগুলিতে পরিবর্তন আনতে পারে, যা শরীরের বিভিন্ন কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে।

৬. শক্তির অভাব এবং দুর্বলতা (Lack of Energy and Weakness):
শরীরকে যদি পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ না করা হয়, তবে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম করার শক্তি কমে যায়। ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং মনোযোগের অভাব দেখা দেয়, যা কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করে।

৭. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Social Isolation):
অনেক কঠোর ডায়েটে সামাজিক অনুষ্ঠান বা আড্ডায় বন্ধুদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা এক ধরণের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে। এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তাহলে সুস্থ থাকার সঠিক উপায় কী? (So, What’s the Right Way to Stay Healthy?)

কঠোর ডায়েটের পরিবর্তে, একটি টেকসই এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা উচিত। এর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত:

  • পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ: আপনার খাবারে যেন সব ধরণের পুষ্টি উপাদান (কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল) সঠিক পরিমাণে থাকে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: শারীরিক কার্যকলাপ মেটাবলিজম বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: ইয়োগা, মেডিটেশন বা অন্যান্য রিলাক্সেশন কৌশল স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
  • চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ: যেকোনো ডায়েট প্ল্যান শুরু করার আগে একজন পেশাদার পুষ্টিবিদ বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Strict Diet সাময়িকভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। পুষ্টিহীনতা, মেটাবলিক ড্যামেজ, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার মতো অসংখ্য ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে আমাদের সচেতন হতে হবে। সুস্থ থাকার জন্য দ্রুত ফলাফল নয়, বরং একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হলো আসল চাবিকাঠি। তাই, কঠোর ডায়েটের ফাঁদে না পড়ে একটি টেকসই এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারার দিকে মনোযোগ দিন। আপনার স্বাস্থ্য আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের উদাহরণ হিসেবে এই ছবিটি দেখতে পারেন:


References:

  1. পুষ্টিহীনতা:
    Schoeller, D. A. (2014). The effect of calorie restriction and diet composition on the body composition response to weight loss. Obesity Reviews, 15(7), 519-530.
    https://onlinelibrary.wiley.com/doi/full/10.1111/obr.12163
  2. মেটাবলিক ড্যামেজ ও ওজন বৃদ্ধি:
    Caron, F., et al. (2018). Impact of different types of energy restriction on body weight and composition. Current Opinion in Clinical Nutrition and Metabolic Care, 21(5), 350-356.
    https://journals.lww.com/co-clinicalnutrition/Abstract/2018/09000/Impact_of_different_types_of_energy_restriction.10.aspx
  3. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা:
    Stice, E., et al. (2013). Eating disorders: review of the risk factors and treatment. Annual Review of Clinical Psychology, 9, 397-424.
    https://www.annualreviews.org/doi/abs/10.1146/annurev-clinpsy-050212-185521
  4. হজম প্রক্রিয়া এবং পেটের সমস্যা:
    Slavin, J. L. (2013). Fiber and prebiotics: mechanisms and health benefits. Nutrients, 5(4), 1417-1435.
    https://www.mdpi.com/2072-6643/5/4/1417

হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা:
Liebman, M., & Fitzwalter, C. (2017). Hormonal Responses to Dieting. Endocrinology and Metabolism Clinics of North America, 46(4), 963-979.
https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S088985291730076X

গবেষণা রেফারেন্স: একটি রিভিউ আর্টিকেল দেখাচ্ছে যে, অত্যন্ত ক্যালরি-
সীমাবদ্ধ ডায়েটগুলি প্রায়শই প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলির
অপর্যাপ্ততার দিকে নিয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
২. মেটাবলিক ড্যামেজ (Metabolic Damage) এবং ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা:
কঠোর ডায়েটের ফলে শরীর দ্রুত ক্যালরি হারায়, যা মেটাবলিক রেট কমিয়ে দেয়। শরীর
এটিকে “অনাহার” হিসেবে দেখে এবং শক্তি সংরক্ষণের চেষ্টা করে। ডায়েট শেষ হওয়ার
পর যখন স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসা হয়, তখন শরীর দ্রুত ওজন বাড়াতে থাকে,
যা “ইয়ো-ইয়ো ইফেক্ট” (Yo-Yo Effect) নামে পরিচিত। এতে করে আগের চেয়ে বেশি
ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
গবেষণা রেফারেন্স: ডঃ ফ্রঁসোয়া ক্যারন এবং তার সহকর্মীদের গবেষণা
ব্যাখ্যা করে যে, খুব কম ক্যালরির ডায়েট দীর্ঘমেয়াদে বেসাল মেটাবলিক রেট
(BMR) হ্রাস করতে পারে, যা ভবিষ্যতে ওজন ধরে রাখা কঠিন করে তোলে।
৩. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা (Mental Health Issues):
খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা, খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়া, মানসিক চাপ এবং
ডিপ্রেশন কঠোর ডায়েটের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অনেক সময় এটি খাদ্যের
প্রতি এক ধরণের অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করে, যা ইটিং ডিসঅর্ডারের (Eating
Disorders) জন্ম দিতে পারে।
 গবেষণা রেফারেন্স: একটি মেটা-অ্যানালাইসিস থেকে জানা যায় যে, কঠোর
ডায়েট এবং ক্যালরি সীমাবদ্ধতা এনোরেক্সিয়া নার্ভোসা এবং বুলিমিয়া
নার্ভোসার মতো ইটিং ডিসঅর্ডারের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ডায়েটিং প্রায়শই
খাবার নিয়ে অবসেশন তৈরি করে।
৪. হজম প্রক্রিয়া এবং পেটের সমস্যা (Digestive Issues):
অনেক কঠোর ডায়েটে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বাদ দেওয়া হয়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য,
বদহজম এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া, অন্ত্রের
মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক
স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 গবেষণা রেফারেন্স: জার্নাল অফ নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র
উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যের অভাবে হজমতন্ত্রের সমস্যা এবং অন্ত্রের
স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে।
৫. হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imbalance):
শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালরি এবং ফ্যাট না পেলে হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে

পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রে সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব এবং হাড়ের
ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
 গবেষণা রেফারেন্স: লিবম্যান এবং ফিৎসওয়াল্ড এর গবেষণায় দেখা যায় যে,
দীর্ঘস্থায়ী ক্যালরি সীমাবদ্ধতা থাইরয়েড হরমোন, কর্টিসল এবং সেক্স
হরমোনগুলিতে পরিবর্তন আনতে পারে, যা শরীরের বিভিন্ন কার্যকারিতাকে
প্রভাবিত করে।
৬. শক্তির অভাব এবং দুর্বলতা (Lack of Energy and Weakness):
শরীরকে যদি পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ না করা হয়, তবে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম
করার শক্তি কমে যায়। ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং মনোযোগের অভাব দেখা দেয়, যা
কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
৭. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Social Isolation):
অনেক কঠোর ডায়েটে সামাজিক অনুষ্ঠান বা আড্ডায় বন্ধুদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করা
কঠিন হয়ে পড়ে, যা এক ধরণের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে। এটি মানসিক
স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাহলে সুস্থ থাকার সঠিক উপায় কী? (So, What’s the Right Way to Stay
Healthy?)
কঠোর ডায়েটের পরিবর্তে, একটি টেকসই এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা উচিত।
এর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত:
 পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ: আপনার খাবারে যেন সব ধরণের পুষ্টি উপাদান
(কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল) সঠিক পরিমাণে থাকে।
 নিয়মিত ব্যায়াম: শারীরিক কার্যকলাপ মেটাবলিজম বাড়াতে এবং ওজন
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
 পর্যাপ্ত ঘুম: ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য
করে।
 স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: ইয়োগা, মেডিটেশন বা অন্যান্য রিলাক্সেশন কৌশল
স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
 চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ: যেকোনো ডায়েট প্ল্যান শুরু করার আগে
একজন পেশাদার পুষ্টিবিদ বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Strict Diet সাময়িকভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের
জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। পুষ্টিহীনতা, মেটাবলিক ড্যামেজ, মানসিক
স্বাস্থ্য সমস্যা এবং হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার মতো অসংখ্য ক্ষতিকর প্রভাব

থেকে বাঁচতে আমাদের সচেতন হতে হবে। সুস্থ থাকার জন্য দ্রুত ফলাফল নয়, বরং
একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হলো আসল চাবিকাঠি। তাই,
কঠোর ডায়েটের ফাঁদে না পড়ে একটি টেকসই এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারার দিকে
মনোযোগ দিন। আপনার স্বাস্থ্য আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের উদাহরণ হিসেবে এই ছবিটি দেখতে পারেন:
References:

  1. পুষ্টিহীনতা:
    Schoeller, D. A. (2014). The effect of calorie restriction and diet
    composition on the body composition response to weight
    loss. Obesity Reviews, 15(7), 519-530.
    https://onlinelibrary.wiley.com/doi/full/10.1111/obr.12163
  2. মেটাবলিক ড্যামেজ ও ওজন বৃদ্ধি:
    Caron, F., et al. (2018). Impact of different types of energy restriction
    on body weight and composition. Current Opinion in Clinical Nutrition
    and Metabolic Care, 21(5), 350-356.
    https://journals.lww.com/co-
    clinicalnutrition/Abstract/2018/09000/Impact_of_different_types_of_e
    nergy_restriction.10.aspx
  3. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা:
    Stice, E., et al. (2013). Eating disorders: review of the risk factors and
    treatment. Annual Review of Clinical Psychology, 9, 397-424.
    https://www.annualreviews.org/doi/abs/10.1146/annurev-clinpsy-
    050212-185521
  4. হজম প্রক্রিয়া এবং পেটের সমস্যা:
    Slavin, J. L. (2013). Fiber and prebiotics: mechanisms and health
    benefits. Nutrients, 5(4), 1417-1435.
    https://www.mdpi.com/2072-6643/5/4/1417
  5. হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা:
    Liebman, M., & Fitzwalter, C. (2017). Hormonal Responses to
    Dieting. Endocrinology and Metabolism Clinics of North America,
    46(4), 963-979.
    https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S088985291730076
    X

Similar Posts

  • Polycystic Ovary Syndrome (PCOS) – সমাধান কী?

    Polycystic Ovary Syndrome (PCOS) হলো এক ধরনের হরমোনজনিত সমস্যা, যা নারীদের ডিম্বাশয়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক ছোট ছোট সিস্ট (থলি) তৈরি করে এবং মাসিক চক্রকে অনিয়মিত করে। এটি মূলত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের অতিরিক্ত নিঃসরণ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘটে। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১০-১৫% প্রজননক্ষম নারী এই সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে,…

  • হাঁটুর ব্যথা কমানোর উপায়

    Knee Osteo Arthritis ম্যানেজমেন্টে ইয়োগার ভুমিকা নিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ মে US National Center for Biotechnology Information একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এই গবেষণাপত্রে বলা হয় Yoga has been found to be effective in reducing pain and stiffness in KOA patients, it can also improve the physical function of patients (অর্থাৎ, হাঁটুর আরথ্রাইটিসে ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে…